এখন থেকে অনলাইনেই জাতীয়
পরিচয়পত্রের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন
করা যাবে। জাতীয় পরিচয়পত্র
সংশোধন, নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন আবেদন, হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া পরিচয়পত্র নতুন করে তোলা, ছবি বা স্বাক্ষর পরিবর্তনের আবেদন সবকিছু হবে এখন এক ক্লিকেই।
নির্বাচন কমিশনের services.nidw.gov.bd এই
ওয়েবসাইটে গিয়ে এখন ঘরে বসেই
সবকিছু করতে পারবেন ইন্টারনেট
ব্যবহারকারিরা। পাশপাশি বিদ্যমান
প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে।
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫
জাতীয় পরিচয় পত্র
চাঁদ, জোছনা আর সোহানার গল্প
চাঁদ , জ্যোৎস্না আর সোহানার গল্প
মারজুক সাহেবের ঘুম ভেঙ্গে যেতেই ওয়ারড্রব এর ওপর রাখা হালকা নিল আলোর এ.ই.ডি ক্লকটির দিকে চোখ গেলো। রাত ৩টা ১২ মিনিট।
ঘুম ভাঙ্গা চোখ নিয়ে মারজুক সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলার পর একটা আরাম অনুভূত হয়। মনে শান্তি শান্তি ভাব আসে। কিন্তু প্রতিটা মানুষ তার ফেলে আসা স্মৃতির কথা মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা হয় দুখের স্মৃতি বা এমন কোন সুখ স্মৃতি যা ফেলে আসার জন্য খুব বেশি আফসোস অনুভূত হয়।
মারজুক সাহেব পাশে শুয়ে থাকা স্ত্রী সোহানার দিকে তাকালেন। বিয়ে করেছেন ২ বছর। কিন্তু নিজের স্ত্রীকে কখনো এতোটা মনোযোগ দিয়ে দেখেন নি।
জানালার সাদা পর্দার ফাঁক দিয়ে চাঁদের সামান্য কিছু আলো সোহানার ডান গালে এসে পড়ছে। সোহানার কানের ছোট পাথরের দুলের ওপর চাঁদের আলো পড়াতে দুলটা ঝলমল করছে। তা দেখে মারজুক সাহেবের ঘুমের ঘোর কেটে গেলো। খুব মনোযোগ দিয়ে চাঁদের আলোয় স্ত্রী সোহানার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন। মারজুক সাহেবের মনে হলো তিনি তার স্ত্রীকে প্রথম দেখছেন। এতো মায়াবী চেহারা সোহানার। অথচ এতোটা খেয়াল করে কখনো দেখেন নি।
নাহ ! ঘুম আসবেনা আজ। মারজুক সাহেব চিন্তা করলেন বাকি রাতটা না ঘুমিয়ে সোহানার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে কাটিয়ে দিবেন। এ কথা ভাবতে ভাবতে মারজুক সাহেব তার প্রথম প্রেমিকার কথা মনে করলেন। কলেজ ক্যান্টিনে দেখা তিথির সাথে। এরপর কথা...
একসাথে ঘোরাঘুরি... তারপর প্রেম।
অতিরিক্ত রোম্যান্টিসিজম দেখাতে গিয়ে একদিন তিথিকে বলে ফেলেছিলেন তোমার সাথে বিয়ের পর রাতে আমি ঘুমাবোনা। তিথি হেঁসে বলেছিলোঃ
“তাহলে কি না ঘুমিয়ে আমার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকবা?”
মারজুক বলেছিলোঃ “হ্যা, চাঁদের মত একটা বউ পাশে শুয়ে থাকলে থাকলে নাক ডেকে ঘুমানো তো আহাম্মকি কাজকারবার”
তিথি হেঁসে বলেছিলোঃ
“প্লিজ ওটা করবেনা। আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে তো আমার নিজের ই ঘুম আসবেনা”।
মারজুক সাহেব বললেনঃ
“আরে বোকা মেয়ে... তুমি ঘুমিয়ে পড়লে তখন আমি তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবো... সারারাত... একদম ভোর না হয়া পর্যন্ত।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে মারজুক সাহেব আবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।
তিথি জীবন থেকে চলে গেলো। এরপর গ্রাজুয়েশন, চাকরি তারপর সোহানাকে বিয়ে। কিভাবে যে এতোগুলো বছর কেটে গেলো বুঝতেই পারলেন না। বাবা-মার পছন্দ মতেই সোহানাকে বিয়ে করেছেন মারজুক সাহেব। কিন্তু তিথি চলে যাবার পর মন থেকে পুরোপুরিভাবে তিথিকে ভুলে যেতে পারেন নি। দিনের কোন না কোন সময় তিথিকে তার মনে পড়েছে। কখনো বাথরুমে গিয়ে ট্যাপ ছাড়ার সময়, কখনো মুখে শেভিং ফোম লাগানোর সময় আবার কখনোবা ফোনটা সুইচ অফ করার সময়। প্রতিদিন কম করে হলেও ০.০১ সেকেন্ডের জন্য হলেও তিথি মারজুক সাহেবের কল্পনার জানালায় উঁকি মেরেছে।
আবার দীর্ঘশ্বাস ......
না এ দীর্ঘশ্বাস টা কষ্টের নয়... মারজুক সাহেব এবার বিয়ের দিনের কথা মনে করে এই দীর্ঘশ্বাস টা ফেললেন। বিয়েটা তিনি মা –বাবার জোরাজুরিতে করেছেন। মা-বাবা দুজনেরই বয়স হয়ে যাওয়াতে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট এর পরপর চাকরি নিয়ে মারজুক সাহেব সোহানার সাথে কবুল বললেন।
বিয়ের এক মাসের মাথায় স্কলারশিপ নিয়ে দু’ বছরের জন্য পাড়ি জমান লন্ডনে। সোহানার সাথে ঘনিষ্ঠ হবার সময় সুযোগ কিছুই মেলেনি মারজুক সাহেবের। মাঝে মাঝে স্কাইপিতে কথা হতো শুধু ...
গত সপ্তাহে দেশে ফিরেই যখন ঘরে ঢুকলেন, সোহানাকে তার নতুন বউ এর মত মনে হলো। কেমন যেন অচেনা-অজানা। দীর্ঘ সময় পাশে ছিলেন না। তাছাড়া বিয়ের পরপর ই চলে গেলেন লন্ডনে।
সোহানা একটু নড়েচড়ে উঠলো। মারজুক সাহেব তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করলেন। মিনিট দুয়েক পার হবার পর আবার চোখ খুলে তাকালেন স্ত্রী সোহানার দিকে। সোহানা এবার উপরের দিকে মুখ করে ঘুমোচ্ছে। মারজুক সাহেব সোহানার সৌন্দর্য দেখেই যাচ্ছেন। খুব ইচ্ছে করছে সোহানাকে ডেকে তুলবেন। কিন্তু পরক্ষণে চিন্তা করলেন সোহানাকে ঘুম ভাঙিয়ে ডেকে তুললে তিনি তার স্ত্রীর মায়াবী চেহারা মনোযোগ দিয়ে দেখতে পারবেন না।
নাহ...
মারজুক সাহেব সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন। আজ ভোর না হয়া পর্যন্ত তিনি সোহানার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। প্রয়োজনে অসুস্থতার কথা বলে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে দিনের বেলা ঘুমটা পুষিয়ে নেবেন। সোহানার মাথার কাছে রাখা লুমিয়া ১০৫০ মডেলের ফোনটাতে এল্যার্ম বেজে উঠলো... এল্যার্ম টোন জন ডেনভারের “লিভিং অন এ জেট প্লেন”। সোহানার প্রিয় শিল্পী। এল্যার্ম বাজতে না বাজতেই মারজুক সাহেব চট করে চোখ বন্ধ করে ফেললেন। মিটমিট করে দেখছেন সোহানা তার শরীরের অগোছালো কাপড় ঠিক করছে। ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে বসে চুলের খোপা বাঁধছে।
মারজুক সাহেব আস্তে করে নিজের ফোনটা কাথার নিচে ঢুকিয়ে কৌশলে রিংটোন বাজালেন। ঘুম ভাঙ্গার ভান নিয়ে ফেইক কল রিসিভ করলেন...
আচ্ছা ঠিক আছে বলে কেটে দিলেন।
সোহানা মারজুক সাহেবের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলোঃ
“ঘুম কেমন হয়েছে”
মারজুক সাহেব মুচকি হেঁসে বললেনঃ
“এদিকে আসবে একটু”
তারপর......
তারপরের কাহিনীটা আরেকদিন লিখবো।